Header Ads Widget

Responsive Advertisement

রোজা সম্পর্কে মাসআলা

 

মাসআলা : প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্ক বালেগ মুসলিমের উপর রমযানের রোযা ফরয। আল্লাহ তাআলা বলেন

فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ  فَلْیَصُمْهُ.

সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবেসে যেন অবশ্যই রোযা রাখে। সূরা বাকারা (০২) : ১৮৫ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৫রদ্দুল মুহতার ২/৩৭২

মাসআলা : শাবানের ২৯ তারিখ দিবাগত সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলে পরদিন থেকে রোযা রাখতে হবে। নতুবা শাবানের ৩০ দিন পূর্ণ করার পর রোযা রাখা শুরু করবে।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ ذَكَرَ رَمَضَانَ فَقَالَ: لَا تَصُومُوا حَتَّى تَرَوُا الْهِلَالَ، وَلَا تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوْهُ، فَإِنْ أُغْمِيَ عَلَيْكُمْ فَاقْدِرُوا لَهُ.

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেনরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (রমযানের) চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোযা রাখবে না এবং (শাওয়ালের) চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোযা রাখা বন্ধ করবে না।  যদি চাঁর দৃষ্টির আড়ালে হয় তাহলে (মাস ত্রিশ) গণনা করবে। সহীহ মুসলিম ১/৩৪৭হাদীস ১০৮০

অন্য হাদীসে আছে(শাবানের ২৯ দিন পূর্ণ করার পর) তোমরা যদি রমযানের চাঁদ না দেখ তাহলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে। আলমুসান্নাফআবদুর রাযযাকহাদীস ৭৩০১আলবাহরুর রায়েক ২/২৬৩ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৭

মাসআলা : আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে  রোযা শুরুর জন্য এমন একজন ব্যক্তির চাঁদ দেখাই যথেষ্ট হবেযার দ্বীনদার হওয়া প্রমাণিত কিংবা অন্তত বাহ্যিকভাবে দ্বীনদার।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেনএকজন মরুবাসী ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট (রমযানের) চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেনতুমি কি একথার সাক্ষ্য দাও যেআল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল?

সে বললহাঁ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সকলকে রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন। মুসতাদরাকে হাকেম ১/৪২৪হাদীস সুনানে আবু দাউদহাদীস ২৩৩৩সুনানে নাসায়ীহাদীস ২৪২২মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহাদীস ৯৫৫৭আলবাহরুর রায়েক ২/২৬৩রদ্দুল মুহতার ২/৩৮৫

মাসআলা : আকাশ পরিষ্কার থাকলে একজনের খবর যথেষ্ট নয়বরং এত লোকের খবর প্রয়োজনযার দ্বারা প্রবল বিশ্বাস জন্মে যেচাঁদ দেখা গেছে। কেননাযে বিষয়ে অনেকের আগ্রহ ও সংশ্লিষ্টতা থাকে তাতে দু-একজনের খবরের উপর নির্ভর করা যায় না। আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৩৮রদ্দুল মুহতার ৩/৩৮৮

মাসআলা : কোনো ব্যক্তি একাকী চাঁদ দেখেছেকিন্তু তার সাক্ষ্য গৃহিত হয়নিএক্ষেত্রে তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে রোযা রাখা উত্তমজরুরি নয়।

এক ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্তাব রা.-এর নিকট এসে বললআমি রযমানের চাঁদ দেখেছি।

উমর রা. জিজ্ঞাসা করলেনতোমার সাথে অন্য কেউ কি দেখেছে?

লোকটি বললনাআমি একাই দেখেছি।

উমর রা. বললেনতুমি এখন কী করবে?

লোকটি বলল(আমি একা রোযা রাখব না) সবাই যখন রোযা রাখবে আমিও তখন রোযা রাখব।

উমর রা. তাকে বাহবা দিয়ে বললেনতুমি তো বড় ফিকহ ও প্রজ্ঞার অধিকারী। মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৪/১৬৮আলমুহাল্লা ৪/৩৭৮

ফুকাহায়ে কেরাম বলেনএমন ব্যক্তির জন্য রোযা রাখা জরুরি না হলেও উত্তম হল রোযা রাখা। বাদায়েউস সানায়ে ২/২২১

মাসআলা : শাবান মাসের ২৯ ও ৩০ তারিখে রোযা রাখবে নানা রমযানের নিয়তে না নফলের নিয়তে। অবশ্য যে পূর্ব থেকেই কোনো নির্দিষ্ট দিবসে (যথা  সোম ও মঙ্গলবার) নফল রোযা রেখে আসছেআর ঘটনাক্রমে শাবানের ২৯ ও ৩০ তারিখে ঐ দিন পড়েছে তার জন্য এই তারিখেও নফল রোযা রাখা জায়েয।

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : نهى رسول الله عليه وسلم أن يتعجل شهر رمضان بصوم يوم أو يومين، إلا رجل كان يصوم صوما فيأتي ذلك على صومه.

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনতোমরা রমযান মাসের একদিন বা দুই দিন পূর্ব থেকে রোযা রেখো না। তবে কারো যদি পূর্ব থেকেই নির্দিষ্ট কোনো দিন রোযা রাখার অভ্যাস থাকে আর ঐ দিন উক্ত তারিখ পড়ে যায় তাহলে সে ঐ দিন রোযা রাখতে পারে। সহীহ বুখারী ১/১৫৬হাদীস ১৯১মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৪/১৫৮হাদীস : ৭৩১৫জামে তিরমিযী ২/৩২রদ্দুল মুহতার ২/৩৮২বাদায়েউস সানায়ে ২/২১৭


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ