Header Ads Widget

Responsive Advertisement

যাদের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে

 

যাদের জন্য রোযা না রাখার অনুমতি রয়েছে

১. মুসাফির

মাসআলা : মুসাফিরের জন্য সফরের হালতে রোযা না রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে অস্বাভাবিক কষ্ট না হলে রোযা রাখাই উত্তম। আর অস্বাভাবিক কষ্ট হলে রোযা রাখা মাকরূহ। এ অবস্থায় রোযা না রেখে পরে তা কাযা করবে।

আছিম রাহ. বলেনআনাস রা.কে সফরকালে রোযা রাখার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনযে রোযা রাখবে নাসে অবকাশ গ্রহণ করল আর যে রোযা রাখল সে উত্তম কাজ করল। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬/১৩২রদ্দুল মুহতার ২/৪২১ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪০৩

মাসআলা : সফরের হালতে রোযা রাখা শুরু করলে তা আর ভাঙা জায়েয নয়। কেউ ভেঙে ফেললে গুনাহগার হবে। তবে কাফফারা আসবে না। শুধু কাযাই যথেষ্ট।

আনাস রা. বলেনকেউ রোযা রেখে সফরে বের হলে রোযা ভাঙবে না। তবে যদি পিপাসার কারণে প্রাণনাশের আশঙ্কা হয় তাহলে রোযা ভাঙতে পারবেপরে তা কাযা করে নেবে। ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪০৩রদ্দুল মুহতার ২/৪৩১

মাসআলা : মুসাফির সফরের কারণে রোযা রাখেনিকিন্তু দিন শেষ হওয়ার আগেই মুকীম হয়ে গেল। তাহলে দিনের অবশিষ্ট সময় রমযানের মর্যাদা রক্ষার্থে পানাহার থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। তবে পরবর্তী সময়ে এ রোযার কাযা অবশ্যই করতে হবে।

ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেনযে মুসাফির রমযানের দিনে (সফরের হালতে) পানাহার করেছে সে মুকীম হয়ে গেলে দিনের বাকি অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬/২২১আলবাহরুর রায়েক ২/২৯১ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২৮

মাসআলা : রমযানের দিনে হায়েয-নেফাস থেকে পবিত্র হলে অবশিষ্ট দিন রমযানের মর্যাদা রক্ষার্থে পানাহার থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। তবে উক্ত ওযরে ছুটে যাওয়া রোযাগুলোর সাথে এ দিনের রোযাও কাযা করবে।

হাসান রাহ. বলেনসুবহে সাদিকের পর যে হায়েয থেকে পবিত্র হয়েছে সে দিনের বাকি অংশে পানাহার করবে না। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬/২২১ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২৮আলবাহরুর রায়েক ২/২৯১

২. অসুস্থ ব্যক্তি

মাসআলা : রোযার কারণে যে রোগ বৃদ্ধি পায় বা রোগ দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে সে রোগে রোযা ভাঙার অবকাশ আছে। উল্লেখ্যআশঙ্কা যদি সুস্পষ্ট হয় তাহলে তো কথা নেই। নতুবা একজন অভিজ্ঞ ও দ্বীনদার চিকিৎসকের মতামতের প্রয়োজন হবে। আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৯আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২২

৩. গর্ভবতী

মাসআলা : রোযা রাখার কারণে গর্ভবতী মহিলা নিজের কিংবা সন্তানের প্রাণহানী বা মারাত্মক স্বাস্থ্যহানীর প্রবল আশঙ্কা করলে তার জন্য রোযা ভাঙা জায়েয। পরে এ রোযা কাযা করে নেবে। আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৯আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২২

৪. দুগ্ধদানকারিণী

মাসআলা : দুগ্ধদানকারিণী মা রোযা রাখলে যদি সন্তান দুধ না পায় আর ঐ সন্তান অন্য কোনো খাবারেও অভ্যস্ত না হয়ফলে দুধ না পাওয়ার কারণে সন্তানের মৃত্যুর বা মারাত্মক স্বাস্থ্যহানীর আশঙ্কা হয়তাহলে তিনি রোযা ভাঙতে পারবেন এবং পরে কাযা করে নেবেন। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছেআল্লাহ তাআলা মুসাফিরের জন্য রোযার হুকুম শিথিল করেছেন এবং আংশিক নামায কমিয়ে দিয়েছেন। আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণীর জন্যও রোযার হুকুম শিথিল করেছেন। জামে তিরমিযী ১/১৫২আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৯আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২২

৫. দুর্বল বৃদ্ধ ব্যক্তি

মাসআলা : বার্ধক্যজনিত কারণে রোযা রাখতে সক্ষম না হলে রোযা না রাখার অনুমতি রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে একজন গরীবকে দুই বেলা খাবার খাওয়াবে অথবা পৌনে দু কেজি গমের মূল্য সদকা করবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন

وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ.

আর যাদের রোযা রাখা অত্যন্ত কষ্টকর তারা ফিদইয়াÑএকজন মিসকীনকে খাবার প্রদান করবে। সূরা বাকারা (০২) : ১৮৪আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬১ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ