Header Ads Widget

Responsive Advertisement

নাভির নিচের চুল ও বগলের চুল পরিষ্কার করার মেয়াদ ও শরয়ী বিধান

 নাভির নিচের চুল ও বগলের চুল পরিষ্কার করার মেয়াদ ও শরয়ী বিধান

#প্রশ্ন: নাভির নিচের চুল ও বগলের চুল কাটার মেয়াদ কী? কতদিনের মধ্যে তা কাটতে হবে? এ ব্যাপারে একটি কথা শুনেছি যে, ৪০ দিনের বেশি হলে নামায হবে না, এটি কতটুকু সত্য জানিয়ে বাধিত করবেন।
নাভির নিচের অবাঞ্ছিত লোম এবং বগলের চুল পরিষ্কার করার উপযুক্ত ও উত্তম সময় হলো প্রতি সপ্তাহে একবার। বিশেষ করে জুমার দিন গোসলের প্রাক্কালে এটি পরিচ্ছন্ন করা সুন্নাত। তবে সর্বোচ্চ পনেরো দিনের মধ্যে তা পরিষ্কার করা মুস্তাহাব।
শরিয়তের দৃষ্টিতে এগুলোর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার সর্বোচ্চ সীমা হলো চল্লিশ দিন। যদি কোনো ব্যক্তি পরপর চল্লিশ দিন পর্যন্ত এই চুলগুলো না কেটে একেবারে অক্ষত ও অপ্ররিচ্ছন্ন অবস্থায় ফেলে রাখে, তবে তা মাকরুহে তাহরীমির (ওয়াজিবের কাছাকাছি নিষিদ্ধ ও গোনাহের কাজ) পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
এ বিষয়ে প্রখ্যাত সাহাবি হযরত আনাস (রা.) থেকে একটি সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন:
> «وُقِّتَ لَنَا فِي قَصِّ الشَّارِبِ، وَتَقْلِيمِ الأَظْفَارِ، وَنَتْفِ الإِبْطِ، وَحَلْقِ العَانَةِ، أَنْ لَا نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً»
> “গোঁফ ছাঁটাই করা, নখ কাটা, বগলের চুল উপড়ে ফেলা এবং নাভির নিচের চুল মুণ্ডানোর ব্যাপারে আমাদের জন্য মেয়াদ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে যে, আমরা যেন সেগুলোকে চল্লিশ রাতের অধিক সময় আপন অবস্থায় (না কেটে) ছেড়ে না রাখি।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৫৮; সুনানে নাসায়ি, হাদিস নং: ১৪)
চল্লিশ দিন পার হলে কি নামাজ হয় না?
৪০ দিনের বেশি সময় ধরে চুলগুলো না কাটলে নামাজ হবে না—এ কথাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুল। মাকরুহে তাহরীমি সময়ের মধ্যে চুল পরিষ্কার না করার কারণে ওই ব্যক্তির কার্যতের গোনাহ হলেও, এর ফলে তার আদায়কৃত ফরজ নামাজ বাতিল বা নষ্ট হয়ে যায় না। নামাজ সম্পূর্ণ আদায় হয়ে যাবে, তবে বিলম্ব করার কারণে সে গুনাহগার হবে। অতএব, পরিচ্ছন্নতার এই সুন্নাহটি নিয়মিত ৪০ দিনের আগেই আদায় করার ব্যাপারে সর্বদা যত্নবান হওয়া জরুরি।
* সহিহ মুসলিম: ১/১৯৭, হাদিস নং: ২৫৮ (দারু ইহইয়্যাত তুরাস আল-আরাবি, বৈরুত)
* সুনান নাসায়ি: ১/১৪, হাদিস নং: ১৪ (মাকতুবাতুল মাতবুআত আল-ইসলামিয়্যাহ, হালাব)
* ফাতাওয়া শামী (রদ্দুল মুহতার): ৬/৪০৬ (দারুল ফিকর, বৈরুত)
* ফাতাওয়া রহীমিয়া: ৩/২০৩-২০৪, ২/২৩৯ (দারুল ইশাক, করাচি)
* আল-মাবসূত লিস সারাখসি: ২০/৬২ (দারুল মাআরিফা, বৈরুত)


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ