Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বিদায়ের সময় ‘আসি’ বা ‘আসছি’ বলার বিধান


 বিদায়ের সময় ‘আসি’ বা ‘আসছি’ বলার বিধান



#প্রশ্ন: অনেকে বিদায় নেওয়ার সময় বলে, ‘আসি’। আমি এক ওস্তাদের কাছে শুনেছি, বিদায় নেওয়ার সময় এই শব্দটি ব্যবহার করা যাবে না। কারণ এতে নাকি মিথ্যা বলা হয়। এখন আমার প্রশ্ন হলো, শরিয়ত অনুযায়ী বিদায় বেলায় ‘আসি’ বলা কেমন? যদি না বলা যায় তবে কী বলতে হবে, বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
বিদায়ের সময় ‘আসি’ বা ‘আসছি’ বলা শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ জায়েজ এবং বৈধ। বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে মানুষ সাধারণত এই বাক্য দ্বারা এটিই বোঝায় যে, সে এখন স্থান ত্যাগ করার অনুমতি চাচ্ছে। ‘আসি’ বলার মাধ্যমে বক্তা যেমন ভবিষ্যতে আবার ফিরে আসবে—এমন কোনো পাকা ওয়াদা বা মিথ্যা দাবি করে না, তেমনি শ্রোতারাও তা আক্ষরিক অর্থে ধরে নেয় না। এটি কেবল বিদায়কালীন একটি প্রচলিত সামাজিক অভিবাদন বা ভঙ্গি মাত্র, যার মধ্যে কোনো ধরনের মিথ্যা বা শরিয়তবিরোধী কথা নেই।
তবে মনে রাখা উচিত, বিদায়ের সময় মুখের সাধারণ কথার চেয়ে সুন্নাত তরিকা হলো সালাম আদান-প্রদান করা। আগমনকালের মতো বিদায়ের সময়ও সালাম দেওয়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও সুন্নাত।
বিকল্প সুন্দর অভিব্যক্তি বা যা বলা যেতে পারে:
‘আসি’ বলার পরিবর্তে বা এর পাশাপাশি আরও সুন্দর ও বরকতময় অভিবাদন ব্যবহার করা উত্তম।
যেমন:
* আল্লাহ হাফেজ (আল্লাহ আপনাদের হেফাজত করুন)।
* ফি আমানিল্লাহ (আল্লাহর নিরাপত্তায় রইলাম)।
* আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ (যা বিদায়ের সুন্নাত)।
* শুআবুল ঈমান (বাইহাকি): ৬/৪৪৮-৪৪৯, হাদিস নং: ৮৯১৫ (দারুল কুন্তু্ব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)
* জামে তিরমিজি: ২/১০০, হাদিস নং: ২৭02 (দারু ইহইয়্যাত তুরাস আল-আরাবি, বৈরুত)
* সুনান আবু দাউদ: পৃ. ৭০৭, হাদিস নং: ৫০১৩ (দারুল ফিকর, বৈরুত)
* ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৪/৪৯১ (মাকতাবে দারুল উলুম করাচি)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ