Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বাকি বা কিস্তিতে বেশি মূল্যে পণ্য বিক্রির বিধান

 বাকি বা কিস্তিতে বেশি মূল্যে পণ্য বিক্রির বিধান



#প্রশ্ন: আমি চকবাজারের একজন পাইকারি ব্যবসায়ী। মাসআলা জেনেছি যে, আমার পণ্য যত বেশি মূল্যে ইচ্ছা বিক্রি করতে পারি, তবে পূর্ণ মূল্যই পণ্যের বিনিময়ে হতে হবে, সুদী পদ্ধতিতে নয়। এখন প্রশ্ন হলো—একই পণ্য বেশি মেয়াদে বিক্রির কারণে মূল্য বেশি নিলে অতিরিক্ত মূল্য তো সময় বৃদ্ধির কারণে হলো। তাই শুধু সময় বৃদ্ধির কারণে এই অতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ করা বৈধ কি না? এটি কি সুদ নয়?
কোনো পণ্যের বাকি বা কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য মূল্য নগদ মূল্য অপেক্ষা কিছু বেশি হওয়া জায়েয ও বৈধ। ঠিক যেভাবে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের সম্মতি ও সন্তুষ্টি সাপেক্ষে নগদের ক্ষেত্রেও বাজারমূল্য থেকে কিছু অতিরিক্ত দাম নেওয়া জায়েয আছে, তেমনি মেয়াদের কারণে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়াও বৈধ। এভাবে অতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ সুদের আওতায় পড়ে না।
তবে মনে রাখতে হবে, বাকি বা কিস্তিতে বিক্রির ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে:
* চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ: বাকি বা কিস্তিতে বিক্রির সময় দাম এবং পরিশোধের নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় কেনাবেচার মজলিসেই পরিষ্কারভাবে নির্ধারিত হতে হবে। যেমন—কেউ নগদে কোনো বস্তু ১০ টাকায় এবং বাকিতে ১২ টাকায় বিক্রি করলে ক্রেতা ক্রয়ের শুরুতেই বলে নেবে যে, আমি বাকিতে ১২ টাকায় তা গ্রহণ করলাম।
* পরবর্তীতে দাম বৃদ্ধি নিষিদ্ধ: বিক্রি সম্পন্ন হওয়ার পর বা মেয়াদ পার হওয়ার পর দেরিতে মূল্য পরিশোধের অজুহাতে অতিরিক্ত কোনো টাকা দাবি করা যাবে না। যদি পাওনা টাকা সময়মতো আদায় না হওয়ার কারণে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়, তবে তা স্পষ্ট সুদ হিসেবে গণ্য হবে।
* হেদায়া: ২/৭৪
* আল-বাহরুর রায়েক: ৬/১১৪
* ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৩/১৩৬


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ