Header Ads Widget

Responsive Advertisement

আশারায়ে মুবাশশারা: পরিচয়, প্রেক্ষাপট ও পর্যালোচনা

 আশারায়ে মুবাশশারা: পরিচয়, প্রেক্ষাপট ও পর্যালোচনা



#প্রশ্ন: আশারায়ে মুবাশশারা বলতে কাদেরকে বোঝানো হয়েছে? নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মাত্র এই ১০ জনকেই জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেছেন? তবে এই ১০ জন এই বিশেষণে প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণ কী? বিস্তারিত দলিলসহ জানতে চাই।
'আশারায়ে মুবাশশারা' (العشرة المبشرة) পরিভাষাটি দ্বারা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র জবান মোবারক থেকে একই মজলিসে বা একই সূত্রে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ জন বিশিষ্ট সাহাবিকে বোঝানো হয়েছে।
তারা হলেন:
১. হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)
২. হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)
৩. হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.)
৪. হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রা.)
৫. হযরত তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.)
৬. হযরত যুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রা.)
৭. হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)
৮. হযরত সাআদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা.)
৯. হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.)
১০. হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা.)
নবীজি কি শুধু এই দশজনকেই জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন?
না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল এই দশজনকেই জান্নাতের সুসংবাদ দেননি। বরং তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বহু সাহাবিকে তাঁদের জীবদ্দশায় জান্নাতি হওয়ার সুসংবাদ শুনিয়ে গেছেন। যেমন—উম্মুল মুমিনিন হযরত খাদিজা (রা.), হযরত বেলাল (রা.), হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.), জান্নাতের যুবকদের সর্দার হাসান ও হুসাইন (রা.), উকাশা ইবনে মিহসান (রা.) প্রমুখ সাহাবিকে পৃথকভাবে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
এই দশজন নির্দিষ্ট এই নামে প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণ
যেহেতু হজরত সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.) কর্তৃক বর্ণিত প্রসিদ্ধ ও সনদভিত্তিক হাদিসে এই দশজন সাহাবির নাম একত্রে এবং একই সাথে উচ্চারিত হয়েছে, তাই মুহাদ্দিসগণ ও ঐতিহাসিকদের পরিভাষায় তাঁরা বিশেষভাবে 'আশারায়ে মুবাশশারা' (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ জন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি) নামে খ্যাতি লাভ করেছেন। এই দশজনের ফাজায়েল ও মাকাম সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত।
* জামে তিরমিজি: ৫/৬৪৭, হাদিস ৩৭৪৭ (দারু ইহইয়্যাত তুরাস আল-আরাবি, বৈরুত)
* সুনান আবু দাউদ: ৪/২১১, হাদিস ৪৬৪৯ (দারুল ফিকর, বৈরুত)
* মিরকাতুল মাফাতীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবিহ: ১১/৩৫৯, হাদিস ৬০৩২ (দারুল ফিকর, বৈরুত)
* ফয়যুল কাদীর শরহে জামিউস সগির: ১/৯০, হাদিস ৭৩৬ (আল-মাকতাবাহ আল-তিজারিয়াতুল কুবরা, মিশর)
* তুহফাতুল আহওয়াযী শরহে জামে তিরমিজি: ১০/১৭১, হাদিস ৩৯৯৪ (দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ