Header Ads Widget

Responsive Advertisement

রিংটোন, কলিংবেল ও ঘড়িতে আজান, সালাম ও কোরআন তিলাওয়াত ব্যবহারের বিধান

 রিংটোন, কলিংবেল ও ঘড়িতে আজান, সালাম ও কোরআন তিলাওয়াত ব্যবহারের বিধান




#প্রশ্ন: বর্তমান মার্কেটে আজান, সালাম, কোরআন তিলাওয়াত ইত্যাদির আওয়াজ সম্বলিত ঘড়ি, কলিংবেল ও মোবাইল সেট পাওয়া যায়। এগুলোতে ঘুম থেকে জাগানো, ঘরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা এবং রিংটোন হিসেবে আজান, সালাম, তিলাওয়াত ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এখন আমার প্রশ্ন হলো, এ ব্যাপারে শরিয়তের কোনো বাধা আছে কি না?
কোরআন তিলাওয়াত, আল্লাহ তাআলার জিকির এবং আজান—এসবের প্রতিটিই অত্যন্ত পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। একমাত্র আল্লাহ তাআলাকে রাজি-খুশি করার উদ্দেশ্যেই যথাযথ আদব রক্ষা করে এগুলোর পঠন, শ্রবণ ও আমল করা জরুরি। অন্যথায় এগুলোর অবমূল্যায়ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আগন্তুকের উপস্থিতির সংবাদের জন্য কলিংবেলে আল্লাহর জিকিরের ব্যবহার, ঘড়ির অ্যালার্ম বা রিংটোন হিসেবে আজান, কোরআন তিলাওয়াত বা জিকিরের ব্যবহার মূলত পবিত্র নিদর্শনগুলোকে অপাত্রে ব্যবহারের মাধ্যমে অবমাননা করার শামিল।
অনেকে সওয়াব বা নেকি পাওয়ার আশায় এসব ব্যবহার করলেও শরিয়তের দৃষ্টিতে এগুলো পরিহার করা আবশ্যক। এর পেছনের মূল কারণ ও ক্ষতিকর দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
* অর্থ বিকৃতি ও অসম্মান: অ্যালার্ম বা কলিংবেলের আওয়াজ বন্ধ করার তাড়ায় মাঝপথেই তা কেটে দেওয়া হয়। যেমন আজানের প্রথম বাক্য ‘আল্লাহু আকবার’ বাজার সাথে সাথেই যদি তা বন্ধ করা হয়, তবে অনেক সময় শব্দের অংশবিশেষ কেটে গিয়ে অর্থের বিরাট পরিবর্তন বা বিকৃতি ঘটে যায়। একইভাবে ফোনের রিংটোন হিসেবে সেট করা আয়াতের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে থাকে।
* তিলাওয়াতের আদব লঙ্ঘন: মোবাইলে ইনকামিং কলে কোরআনের আয়াত বা আজান বাজলে তিলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শোনার পরিবর্তে রিসিভ করা কিংবা কথা বলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তে হয়। অথচ কোরআন শোনার সময় নিরবতা বজায় রাখা ও আদব রক্ষা করা ওয়াজিব।
* পবিত্রতার বরখেলাপ: মোবাইল ফোন নিয়ে বাথরুমে বা টয়লেটে প্রবেশের ফলে সেখানে কল এলে অপবিত্র স্থানে আল্লাহ তাআলার পবিত্র নাম ও কোরআনের আয়াত বেজে ওঠে, যা স্পষ্টতই জিকিরের চরম অসম্মান।
* ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩১৫
* আল-মুগনী: ৪/৪৮২
* আত-তিবয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কোরআন (ইমাম নববী): ৪৬
* হুকুকুত তিলাওয়াহ (শাইখ উসমান হুসাইনী): ৪০১
* হালাতে জাদিদ কি শরয়ী আহকাম: ১৭১
* রদ্দুল মুহতার: ১/৫১৮
* ফাতাওয়া উসমানী: ১/৩২২
* জহিরিয়া ফাতাওয়া: ৫/৪১০


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ